মায়ের ডাক
(একটি চিঠি)
~গওহর
রত্না,
ছোটবেলার
খেলার সাথী/
বোন/
বন্ধু/ প্রিয়,
তুই
তো জানিস আমি টুকটাক লেখালেখি করি- ফেসবুক পেজ এ ও গ্রুপে।
এ
রকম একটা গ্রুপ "লেখার রাজ্য"চেয়েছে নিম্নের ছবিটা দ্যাখ-
এ
ছবির বিশ্লষণ ধর্মী গল্প /কবিতা কিম্বা চিঠি লিখতে হবে।
মনে
পড়ল তোর কথা - দোলা দিলো ফেলে আসা অতীত- প্রজাপতি মনটা ছুটে গেল বাড়ীর আঙ্গিনায়, সেই
ছোট্ট গাঁয়- যেথায় শ্যামলিমার সমারোহ।
বাড়ীর
পাশে ধানক্ষেত, ছোট্ট বিল,ফুটেথাকা পদ্মফুল।
দীর্ঘ
মেঠোপথ- সবুজ ছায়ায় ঘেরা।
মাথার
উপরে নীলাকাশে সাদা তুলার মেঘমালা, তুলোট মেঘের নরম রশ্মি প্রশান্তির শিশির ঝরিয়ে যায়
মন
যমুনায়। পদ্মবিলের জলের মাঝে কোমল মেঘের
প্রতিচ্ছবি।
নৌকার মাঝিদের গান। আকাশের মেঘ সেতো ক্ষণস্থায়ী শিল্প। বিমর্ষতার জমাট শিশিরে যেন তুলির
আঁচড়।
অনাবাদি
জমির চারণভূমিতে ফেটে যাওয়া পরিপক্ক কলির পেঁজা তুলার নরম বিছানা ভেসে বেড়ায় গগন চত্ত্বরে।
মনে পড়ে সেই উড়ন্ত তুলার পিছনে ছোটা ঘর্মাক্ত কলেবরে, মাইলের পর মাইল।গনগনে রোদ্দুরে-
চৈত্রের দুপুরে গা পোড়া গরম জলে, ঝাঁপ দিয়ে পদ্ম বিলে স্নান সমাপন।
পদ্মপাতার
জলের মতন গ্রাম্য রাখালের চকচকে দৃষ্টির দর্পন।- সহজেই ভুলে নেয় বনিক বাতাস তার সহজিয়া
আচরণে।মন পোড়ে চোখ জ্বলে মমতাময়ীর অদর্শনে।
মনে
পড়ে গ্রামের ছায়াঘেরা মেঠো পথে জোনাকি বোষ্টমীর সাজের পশরা নিয়ে একগ্রাম থেকে অন্য
গ্রামে ফেরার দৃশ্য।
মায়ের
হাতের জলখিচুড়ি, ফেন মাখা ভাতের ঘ্রাণ আর বলকের শব্দ, পায়েশের সৌরভ- সকালবেলা বিলের
জলে থালা বাসন ধুয়ে ঘোমটা ছাড়া তোদের ঘরে ফেরার চিত্র দেখার তেষ্টায় যান্ত্রিক জীবনটা
হাঁপিয়ে ওঠে। সবুজ তৃষ্ণা আকন্ঠ পানের পিপাসায় ক্লান্ত মন। নির্ভেজাল গ্রাম- গেরুয়া
মাটির বিমল গন্ধ হাতছানিতে
ডাকে
আমায়।
নিজেকে
সমর্পণ করি God made গ্রাম- আর Man made শহরের মিশেলে দ্বিধান্বিত জীবনের অংশ তুমি,
জন্মভূমি।
তোমার ভালবাসার শীতল কোঁচড়ে মায়ের
কোল
ভেবে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে বারবার।
এ
ছবি মনে করায়- স্মৃতি রোমন্থন মানে, শহুরে জীবনে নয়নের জল, একটি দীর্ঘশ্বাস, এক কাপ
কড়া কফি, এক চিমটি মেকি হাসি- একটি ফুটন্ত গোলাপ।
আর
গ্রামীণ
স্মৃতিতে ভাসে খাল বিল গাছপালার সবুজের প্রতিযোগিতা - সবাইকে সুখি করার।
দূর
গ্রামে মাটির ঘরে বসে এক শান্কি পান্তার তৃপ্তি, কাঁচা মরিচ আর পিঁয়াজের প্রশান্তির
ঢেকুর।
ভাল
থাকিস
তোর
বেলি বু'
রাজধানী।
১০.০৯.'২১

