শেকড়ের
টানে
মোঃ জাকির
হোসেন
প্রথম অংশটুকুর
পর
১.২
পাড়াতো
বাল্যকালের বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ হবে!সেই ল্যাংটাকাল থেকে যাদের সাথে আত্মার গভীর
সম্পর্ক! শৈশব থেকেই যাদের সাথে প্রতিটি মূহুর্তের সুখ -দুখ, আবেগ-উচ্ছ্বাস ভাগাভাগি
করেছি।ওঠা-বসা,চলাফেরা, খেলাধুলা করা,পাঠশালায় যাওয়া, হুড়োহুড়ি, মারামারি করে জীবনের
এতকাল পাড়ি দিয়েছি।আজ কালের স্রোতে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজের সাথে,পেশার সাথে নিজেকে
মানিয়ে নিয়েছে।একেকজন একেক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অনেকে গ্রামের সবুজকোলে পড়ে
রয়েছে। আমার মত অনেকেই সবুজ ছাউনির গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছে। কেউ কেউ গ্রামের
মায়া ত্যাগ করে সেখানেই স্থায়ীত্ব নিয়েছে।
ফলে
সকলের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য বিশ্বের কোন একটা উপলক্ষ প্রয়োজন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও
শেকড়ের টানে,নাড়ির টানে বছরে দুই ঈদে সকলের মিলনমেলা ঘটে। চিরচেনা প্রিয় মানুষগুলির
সাথে একত্রিত হওয়ার আনন্দঘন মূহুর্তগুলোর কথা মনে পড়লে হৃদয়ে প্রশান্তির শিহরণ লাগে।
আত্মার আত্মীকরণ গভীরতা লাভ করে!মূহুর্তেই সকল দুঃখ কষ্টগুলো বিতাড়িত হয়!এমনই অনূভুতির
জন্ম হয় যেন ইতিপূর্বে কারও মনে কোন প্রকার দুঃখ-কষ্ট ছিলই না!শান্তির অতল সমুদ্রেই
যেন চিরকাল ধরে বসবাস করছি!আমরা সবাই সেখানকার বাসিন্দা!
সেজন্যই
তো শত কষ্ট করে, কত যে ত্যাগ তিতিক্ষা সহ্য করে, অনেক অনেক গ্লানি সহ্য করে শেকড়ের
টানে, বৃক্ষের গভীর আকর্ষণে বাড়ি ফিরতে চাওয়ার প্রবল আকাঙ্খা! চিরহরিৎ ছাউনির সবুজ-সোনালী
তেপান্তরের মাঠ ফেড়ে পিছল মাটির মেঠোপথের মায়ার বাঁধনের অদৃশ্য আকর্ষণ কেবল তাকেই বারংবার
আকর্ষিত করে, যার হৃদয় সেখানকার মাটির শেকড়টি আঁকড়ে ধরে রয়!মধুমাখা শৈশব-কৈশরের হাজারো
স্মৃতির পাতাগুলো যে জাদুঘরে সুরক্ষিত ফলকে সুশোভিত হয়!,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,(চলবে)
("শেকড়ের
টানে" উপন্যাসের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে।)

