ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০৫
মোঃ আবদুল হাই
বান্দরবান থেকে থানচি পর্যন্ত রাস্তা অন্য রাস্তার
মত আমার কাছে অপরিচিত এবং নতুন নয়। চেনা রাস্তা। এই রাস্তায় চাঁদের গাড়িতে গিয়েছি,
জীপে গিয়েছি, তানজিম সহ সবাইকে নিয়ে একবার বাসেও গিয়েছি। রাস্তা ভয়াবহ। এই বুঝি পড়ে
গেলাম। এই বুঝি ইঞ্জিন ফেইল করলো। মাঝে মাঝে টেনশনে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো। সেই রাস্তায়
আজ আমি নিজের বাইক নিয়ে। প্রথম ২/৩ টা চড়াই উতরাই পার হওয়ার পর কনফিডেন্টেড হলাম। আর
অমনি রাজ্যের তৃপ্তিতে মন ভরে গেল। কারণ কখনোই এখানকার ময়াবি দৃশ্য মন ভরে উপভোগ করতে
পারিনি। জীপ/ভেনের ড্রাইভারদের মর্জির উপর চলতে হতো। কোথাও থামতে চাইলেও থামতে পারতামনা।
যাওয়া যাবেনা/ থামা যাবেনা/অন্ধকার হয়ে যাবে/আর্মি ঢুকতে দিবেনা/এটা বেশিক্ষণ দেখার
কী আছে। এসব শুনতে হতো। কিন্তু আজ?
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা।
মনে মনে মেলে দিলেম................।
যেখানে, যতবার,যেভাবে ইচ্ছা থেকে থেকে চোখ জুড়িয়েছি।
কখনো বসে, কখনো ঘাসের উপর শুয়ে, কখনো দুই গাছে হেমোক বেধে ঝুলে ঝুলে, দোল খেয়ে।
হেমোকটা আমার নিজের বানানো। মাত্র ২৫০ টাকা খরচ। কী
দিয়ে বানিয়েছি? বলব না।
নিলগিরির একটু আগে চিম্বুকের পরে রিসোর্ট সাইরু হিল।
সাইরু হিলের পার্কং এ নামী দামী মানুষের গাড়ি পার্কিং করা। আমার কমদামী পুরনো বাইকটাও
কিছুক্ষণ পার্কিং এ রাখলাম।
মনে মনে বললাম,
রাজার কাছে যে ধন আছে,
সে ধন এখন আমার কাছে।
সাইরু হিল থেকে উপরে উঠে গেলে বাঁশ দিয়ে বানানো একটা
কফি হাউজ চোখে পড়লো। কাউন্টার, উঠোন, বেঞ্চি সব বাঁশের। চারপাশ জুড়ে অপার্থিব সৌন্দর্য।
শুয়ে বসে এখানে অনেকক্ষণ থাকলাম। এখানে ট্রেকিং ফোর্স বাংলাদেশ এর তিনজন সদস্যের সাথে
কথা হয়। একজন বলল, ধর্মগ্রন্থে জান্নাতের যে বর্ননা পড়েছি এই জায়গাটা আমার কাছে তেমন
লাগছে। নেপাল ফেরত আর একজনের কাছে শুনলাম, নেপালের পাহাড় ও এত সুন্দর না।
ওদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। এরপরই ভয়াবহ ডাউন হিল।
ব্রেকিং সিস্টেম ভালো না থাকলে কী যে হতো! সারাক্ষণ দোয়া কালাম পড়েছি। গলা শুকিয়ে কাঠ।
পানি খাওয়া জরুরি। আবার ইয়ে পেয়েছে। বাইকটা কোনোমতে একটা গাছের নিচে স্ট্যান্ড করিয়ে
টিসু হাতে জংলার আড়ালে গেলাম। কিন্তু ফেরার পথে আর ফিরতে পারলাম না। ঘটে গেল এক ভয়াবহ
ঘটনা।
(চলবে) ……
