ADS

বিজয়ের ৫০ বছর ❑ জিয়াউদ্দীন আহমেদ



বিজয়ের ৫০ বছর জিয়াউদ্দীন আহমেদ

১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯১ হাজার সদস্য বাংলাদেশ ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মাস যুদ্ধ করে আমরা জয় লাভ করি।তাই দিবসটি যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এই আনন্দঘন উদযাপন শুধু দেশে নয়, বিদেশে যেখানেই বাঙ্গালীরা রয়েছেন সেখানেই এই দিবসটি পালিত হয়েছে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনে। শিশুরা নতুন সাজে বেলুন নিয়ে খেলা করেছে, ছবি এঁকেছে, গান করেছে, নাচ আর আবৃত্তি করে সারাটা দিন কাটিয়েছে। এত আনন্দের মাঝেও আমরা ভুলিনি শহীদদের যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করেছেন, শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করেছি সেই বীরাঙ্গনা নারীদের যারা পাকিস্তানি সেনা তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস-এর হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন, সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন।

 

অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিলো বিধায় বিদেশি নৃপতি দ্বারা ভারতবর্ষ বারবার লুণ্ঠিত হয়েছে। মৌর্য গুপ্ত সাম্রাজ্যের পর ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে আরব সেনানায়ক মুহাম্মদ বিন কাশিম সিন্ধু এবং পাঞ্জাব অধিকার করে নিলে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমান শাসনের সূচনা ঘটে। সম্পদ লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে গজনির সুলতান মাহমুদ সতের বার ভারত আক্রমন করেন।দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে মুসলমানদের একাধিক সামরিক অভিযান হয়েছে।এই সকল অভিযানের  ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল  সুলতানি এবং মুঘল শাসন।পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লীর লোদি রাজবংশের সুলতান  ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করে বাবর মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।বিজাতীয় মুঘলদের পাঁচশত বছর শাসন করার পর অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ইংরেজেরা ক্ষমতায় আসে।

 

অসহযোগ আন্দোলন, সশস্ত্র সংগ্রামে অতিষ্ঠ হয়ে ইংরেজ এক সময় ভারতবাসীর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে সম্মত হয়।  কিন্তু কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের রশি টানাটানিতে ভারতবর্ষের বিভাজন এক সময় অবশ্যাম্ভাবী হয়ে উঠে।রাজনীতিতে ধর্ম মুখ্য হওয়ার সাথে সাথে হিন্দু-মুসলমানের সহঅবস্থান অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, ঘটতে থাকে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা, রাস্তা-ঘাটে কর্তিত মস্তক দেখে উপায় ছিলো না কোনটি মুসলমানের আর কোনটি হিন্দুর।সবার বোঝা হয়ে গেল, হিন্দু-মুসলমানের আর এক সাথে থাকা হবে না, আলাদা আলাদা ভূখণ্ড দরকার।মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পকেট থেকে একটি রুমাল বের করে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের সম্মুখে তুলে ধরে বললেন, ‘এমন আকারের একটি ভূখ- হলেও মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র চাই বেঁকে বসলেন এককালের কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, এমন বিভাজনে জাতিগত সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তুতাঁর কথা গুরুত্ব পেল না, ভারতবর্ষ দুই ভাগ হয়ে গেল, হাজার হাজার হিন্দু-মুসলমানের হিজরত সত্বেও ভারত থেকে মুসলমান এবং পাকিস্তান থেকে হিন্দু নির্মূল করা গেল না।

 

ভরতের পূর্ব পশ্চিম পাশে এক হাজার মাইলের ব্যবধানে দুইটি আলাদা ভূখণ্ড নিয়ে মুসলমানদের জন্য হলো পাকিস্তান।পাকিস্তান হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা নিজেদের অভিজাত মুসলমান হিসেবে ভাবতে শুরু করে; কেন্দ্রের নামে পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি আয়ের   সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হতে থাকে।তাদের ধারণা, বাঙালিরা শাসন করতে জানে না, যুদ্ধ করতে জানে না, বিমান চালাতে জানে না, শিল্পপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, ব্যবসার জ্ঞান  নেই, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা নেই।এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নীতি নির্ধারণের কারণে বাঙালি হতে পারেনি সেনা প্রধান, বাঙালির হাতে আসেনি কোন পুঁজি, পুঁজি গঠনের জন্য হয়নি তাদের কোন ব্যাংক, ব্যাংক হাতে না থাকায় হতে পারেনি কোন শিল্পপতি। দেশের রাজধানী হলো পশ্চিম পাকিস্তানে, পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য পরিচালিত হতে থাকলো এক হাজার মাইল দূরবর্তী পশ্চিম  পাকিস্তান থেকে।সিন্ধুনদের উপর ভারতের বাঁধ নির্মাণের কারণে তারা বিশ্ব ব্যাংক ভারত থেকে ক্ষতিপূরণ নিয়ে পাঞ্জাবে তারবেলা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সমস্যার সমাধান করলো; কিন্তু তারা ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে সামান্যতম উচ্চবাচ্যও করলো না, একাত্তরে দেশ স্বাধীন না হলে বাঙালিরা জানতেও পারতো না যে, ভারত এবং পূর্ব পাকিস্তানের অভিন্ন নদী গঙ্গার উপর ভারত ১৯৫১ সন থেকেই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করে যািছলো, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হলো তত দিনে সেই বাঁধ নির্মাণ শেষ, ১৯৭২ সনে হয়ে গেল উদ্বোধন।

 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ ১৯৬৬ সনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সৃষ্ট বৈষম্য দূরীকরণে দফা দাবি ঘোষণা করেন; এই দফায় পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন  নিশ্চিত করা হয়েছিলো। বৈষম্যের বাস্তব চিত্র পরিস্ফূট হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি সেনা অফিসার সিদ্দিক সালিকেরউইটনেস টু সারেন্ডারবইটিতে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সেনাবাহিনীর অনুমোদনক্রমে বইটি ছাপা হয়। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মেজর ছিলেন এবং ছিলেন আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর পিআরও; নিয়াজি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে সর্বশেষ গভর্নর সামরিক আইন প্রশাসক এবং পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক হাই কমান্ডের সর্বশেষ কমান্ডার। তারা দুইজন যুদ্ধ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পণ করেন। সিদ্দিক সালিক বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে আবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সনে সিদ্দিক সালিক পূর্ব পাকিস্তানে পোস্টিং নিয়ে আসার দুইদিন পর তার বাসায় প্রায় দুইশত বাঙালি নারী ধর্ণা দেয়।তিনি  ঘুম থেকে উঠে এত রমনী দেখে ভয় পেয়ে যান, কারণ তখন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে অসহযোগ আন্দোলন চলছিলো।পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিদেশি মেজরের বাসায় প্রচুর বেতনের আশায় আশেপাশের বিভিন্ন বাসার গৃহকর্মীরা সকাল থেকে এসে গেইটে জড় হতে থাকে। এতেই সিদ্দিক সালিক পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণের মাত্রা বুঝতে পেরেছিলেন। এই বইটিতে একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিটে ওয়্যারলেসে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার ঘটনাটিরও উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল  জিয়াউল হকের সাথে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিদ্দিক সালিক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

 

নয় মাসের যুদ্ধে বাংলাদেশের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, অফিস-আদালত, দোকানপাট, সমুদ্রবন্দর, নৌবন্দর, রেললাইন, বিদ্যুৎ সব ধ্বংস হয়ে যায়।ঘর নেই, বাড়ি নেই, বস্ত্র নেই, খাবার নেই, খাবার কেনার পয়সা নেই-চারিদিকে শুধু হাহাকার।যুদ্ধোত্তর দেশে বাস্তুহারা এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনের জন্য ঘরবাড়ি পুনর্র্নিমাণ করতে হয়েছে, শত শত কিলোমিটার রাস্তা, শত শত কালভার্ট, পুল, ব্রিজ নির্মাণ সংস্কার করতে হয়েছে, বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর মেরামত করতে হয়েছে, অচল সমুদ্রবন্দর সচল করতে হয়েছে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হয়েছে।ভাঙ্গা রাস্তাঘাট এবং পরিবহন  ব্যবস্থার অপ্রতুলতায় বিদেশ থেকে পাঠানো খাবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছিলো না। চট্টগ্রাম এবং মোংলা বন্দরে ডুবন্ত জাহাজ অপসারণ এবং মাইন মুক্ত করতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছিলো, এই কাজ করতে গিয়ে সোভিয়েত রাশিয়ার দুজন বিশেষজ্ঞ নিহত হন। ফলে দেড় বছর সমুদ্রবন্দরে বিদেশি কোন জাহাজ ভিড়তে পারেনি; বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকায় শিল্প-কারখানা চালু করা সম্ভব হচ্ছিলো না।কারখানায় শুধু কাঁচামালের অভাব নয়, বিদ্যুতের সরবরাহও ছিলো না।রা শিয়ার সহায়তায় বিদ্যুতের ধ্বংসপ্রাপ্ত সাব-স্টেশনগুলো পুনর্র্নিমাণ করতে এক বছর সময় ব্যয় হয়েছিলো।

 

১৯৭৩ সনে সারা পৃথিবীতে শুরু হলো জ্বালানি-তেল সংকট, কোনো কোনো দেশে তেলের দাম চারশ' গুণেরও বেশি বেড়ে গেল। ফলে বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়, অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেল, সার, গম, চালসহ নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।স্বাধীন বাংলাদেশেবাংলাদেশ ব্যাংকনামে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেই ব্যাংকে ছিলো না কোন নিজস্ব টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ছিলো না, ছিলো না কোন স্বর্ণ বা রূপা। পাকিস্তানি সেনারা তাদের ছাপানো টাকাও অক্ষত রেখে যায়নি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা বের করে তাতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলো। সদ্য স্বাধীন দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার আর্থিক দীনতা এত প্রকট ছিলো যে, তাদের দায় পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে বিদেশের ব্যাংকগুলো সন্দেহ পোষণ করতো, ফলে দেশি ব্যাংকে স্থাপিত এলসি-তে বিদেশি ব্যাংকের দায় পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রধান অপরিহার্য  হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। অভ্যন্তরীণ রুটে কয়েকটি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হলেও একটি বোয়িং সংগ্রহ না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক রুটে নিজেদের কোন ফ্লাইট ছিলো না।পা কিস্তান আমলে যৌথ মালিকানায় অর্জিত বিভিন্ন সম্পদ ভাগাভাগি করতে পাকিস্তান অস্বীকার করায় বাংলাদেশ পাকিস্তান আমলের কিছুই পায়নি; অথচ পাকিস্তান ১৯৪৭ সনে ভারত থেকে তাদের পাওনা আদায় করে নিয়েছিল।

 

দেশের অভ্যন্তরে নানা ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে বৈরি অবস্থান গ্রহণ করে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চুয়াত্তরে দুর্বিষহ দুর্ভিক্ষ তৈরিতে সহায়তা করেছিলো আমেরিকা, তাদের দেয়াতলাবিহীন ঝুড়িআখ্যায় মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি, চীন অনুসারি বামপন্থী, জাসদের উগ্রপš’ীদের অনুপ্রাণিত করেছিলো। এদের সমন্বিত গোপন তৎপরতায় দেশ ব্যাপী শুরু হয় হত্যা, খুন, সন্ত্রাস, ব্যাংক লুট। এত সীমাবদ্ধতা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের নিয়ে গঠন করেছিলেন পরিকল্পনা কমিশন। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে হয়তো শুধু গ্রামীণ অর্থনীতি নয়, সমগ্র বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থারই ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দ্রুততর হতো।

 

তারপরও বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের ৭৫০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা। বিশ্বের অর্থনীতিতে নানা দুর্যোগ থাকা সত্বেও বাংলাদেশের গড়পড়তা প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দারিদ্রের হার হ্রাস পেয়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে, শিশু মাতৃ মৃত্যু হার কমেছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। খাদ্য উৎপাদনে স্বাবলম্বী হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা টেকসই হচ্ছে না। মিঠে পানির মাছ সবজি উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। মানব উন্নয়ন সূচক, সহজে ব্যবসা করার সূচক, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সূচক, গড় আয়ুষ্কাল, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে।

 

বাংলাদেশের এই অগ্রগতি এখন পাকিস্তানের ঈর্ষার কারণ। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই প্রথম পাঁচ বছরে পাকিস্তানকে সুইডেনের মডেলে উন্নীত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। টেলিভিশনের একটি টকশোতে অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক কলামিস্ট জাইগাম খান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উক্ত উক্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘সুইডেন নয়, পাকিস্তানকে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্তরে নিয়ে যেতে পারলেই পাকিস্তানের জনগণ খুশিতে আত্মহারা হবে অবশ্য চারপাশে তাকালে এখনো হাজারটা সমস্যা চোখে পড়বে, কিন্তু ঝুড়ির তলা যে ক্রমেই শক্ত হচ্ছে তা হেনরি কিসিঞ্জাররা উপলব্ধি করতে পারছেন; তাই তারাই ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে অতি গরিব দেশের তালিকা থেকে বের করে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। করোনা অতিমারির মধ্যেও লাল-সবুজের বাংলাদেশ তাই আনন্দের উচ্ছ্বাস নিয়ে উদযাপন করেছে  বিজয়ের ৫০ বছর।

 

লেখক : নির্বাহী পরিচালক  (সাবেক) বাংলাদেশ ব্যাংকের

এবং

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সাবেক) সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের

ahmedzeauddin0@gmail.com

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা