সেই মেয়েটি কনকলতা
মমতা পাল
সন্ধ্যেবেলায় যে মেয়েটি তুলসী
তলায় প্রদীপ জ্বালিয়ে
সবার সুখ কামনা
করত
তার জীবনে নেমে
এলো সহসাই এক ঝড়........
ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল তার
সাধের সংসার।
এলোমেলো করে দিল তার
জীবনটাকে------
সেতো বেশি কিছু
চায়নি......
চেয়েছিল একটু বিশ্বাস, একটু
ভরসা।
আজ সে পাটটাও
হয়তো চুকে গেছে সারাজীবনের
মতো।
আজ সে দিশেহারা,গতিহারা----
সমাজের নানা অনুশাসনে বন্দী।
যে মেয়েটি লুকিয়ে
লুকিয়ে কবিতা লিখত,
গল্প লিখত, প্রেমের
উপন্যাস পড়ত
আর আজ! ভাবতেই
পারেনা সে।
বাঁধাহীন জীবন ছিল তার------
তার হাসিতে নদীর
ঢেউগুলো উপচে পড়ত---
কখনও কখনও হাজারও
কামনা ছুঁতে চাইত তাকে।
কিন্তু আজ
তার কিছুই যেন মনে নেই।
সারাদিন কাজের মাঝে লুকিয়ে রাখে
তার চোখের জল।
সকল চাওয়া পাওয়াকে
নিমিষেই দিয়েছে বলি।
সে ভুলে গেছে
সে মিত্র বাড়ির কন্যা!
অতসীর মা,বিন্দুর কাকীমা,রমার বৌদি
কিংবা সেই ঘোষাল বাড়ির
ছোটবউ।
বাবার সাথে সেই পৌষালি
মেলার কথা বড্ড মনে
পড়ে তার।
ইচ্ছে করে বাবাকে বুকের
মধ্যে সজোরে জড়িয়ে ধরতে----
কিন্তু সে তো হারিয়ে
গেছে ঐ চাঁদের দেশে।
যেখান থেকে কেউ আর
কখনও ফিরে আসেনা।
আজও মনে পড়ে
তার
সেই খেলার সাথীদের
বাঁধভাঙা হাসির জোয়ার,
সেই পুতুল খেলা,
সেই বউ বউ সাজা,
সরস্বতী পূজাতে সাদা লাল শাড়ি
পরা--
তারপর কারও চোখে চোখ
পড়তেই কানদুটো লাল হয়ে যাওয়া
অবশেষে দৌড়ে ছুট----
তারপর সারারাত নির্ঘুম----
স্বপ্নের সাথে একাকী সহবাস।
আবারও দেখা বসন্ত বরণে
সেই মায়াময়রূপ!
চোখে অদ্ভুত চাহনি!
তারপর গুনগুন সুরে গাওয়া
“তোমায় দেখেছি শারদ প্রাতে, তোমায়
দেখেছি মাধবী রাতে-----
এ কেবলই কল্পনা------
বাস্তবতা তো
এটাই
সে আর আসবেনা
আসবেনা কোনদিনও---
তারপর ছোট্ট মেয়েটির হাত ধরে
হয়তোবা
নতুন কোন ঠিকানায়
নতুন করে পরিচয়ে,নতুন কোন নামে।
সবাই
ভুলে যাবে সেই মেয়েটির
নাম--
যাকে সবাই আদরে
ডাকত কনকলতা।
