আত্মনিবেদন
হরিশ চন্দ্র রুদ্র
কী সুখে? কিসের তরে? পাঠিয়েছো এ সংসারে,
বলো না একবার প্রভু দয়াময়,
বুঝিনা তোমার লীলা, জ্ঞানহীন করে কেন সৃজিলা?
যদি তোমায় না বুঝিবারে পাই।
ডাকি না তোমায় কভু, জগৎ সংসারে মজে প্রভু,
হৃদমাঝারে সদা সংশয় জাগে,
কী হবে শেষের দিনে? তোমার অনুগ্রহ বিনে,
থাকব পড়ে পংকিল বিপাকে।।
এত পাপাচার করি! অন্তরে বিষ ভরি,
অহংবোধে চিত্ত পূর্ণ করা,
লাঞ্চনা- ছলনা যত,রেষারেষি অবিরত,
উগ্রতা,নিষ্ঠুরতায় অন্তর গড়া।।
এহেন হীন দশায়,মহাবিশ্ব কি ছন্দময়!
সাজায়েছ নন্দনকানন,
আমি অতি মূঢ়্মতি, না জানি ভজন স্তুতি,
নিজগুনে ক্ষমা করে দাও শ্রীচরণ।
তোমার কত যে গুণ,ভরসা করি অনুক্ষণ,
স্মরিতে পারিনি তোমায় স্বামী,
এখন সব বল হারা,পথের সম্বল ছাড়া,
অন্ধ পথিকের মত আমি।।
ওগো তুমি দীননাথ, করি আমি প্রণিপাত,
অন্ধ নয়নে আলো দাও মোর,
জীবন সায়াহ্নে আসি, রিক্ত-শূন্য আজি,
এ গভীর তমসা নিশি যেন হয় ভোর।।
তোমার নাম স্মরণে, ভয় থাকেনা কাল সমণে,
শেষ সময়ে যেন হৃদে থাকে,
এ প্রার্থনাই করে রাখি, ভুলত্রুটী ক্ষমা মাগি,
আর যদি সময় না থাকে।।
