ছোট্ট আমার নীড়ে কাটায়েছি কতই না সুখের দিন,
বৃদ্ধাশ্রমে বসে চোখের জলে শোধি ভালোবাসার ঋণ।
এইখানে জল অন্ন সবই আছে শুধু নেই সেই প্রিয়জন,
কতদিন শুনিনা রে খোকা তোর সোনা মুখের বচন।
ফজর নামায পড়ে যখন হাতটি দিতেম বুলিয়ে,
আমার খোকারে রেখো গো খোদা নিরাপদে নির্ভয়ে।
বৃদ্ধাশ্রমের গুচ্ছঘরে মনের ঘোরে কত যে বাড়াই হাত,
কোন দোষে আজ তোদের হারা তাই নিঃস্বের অশ্রুপাত!
মনে পড়ে খোকা দুষ্টুমি করে কত যে জ্বালাতিস তুই,
কপট রাগলে ও তবু বাসতাম তোর মুখে কথার খই।
ভাই বোনে যখন খুনসুটি করতি মিলায়ে দিতেম হাত
কোথায় আজ তোরা ওরে বুকের ধন বড়ই কষ্টের দিনরাত।
বৃদ্ধাশ্রমের থালায় পাইনা রে খুঁজে আমার ছোট্ট নীড়ের স্বাদ!
সঠিক শিক্ষা দিতে পারিনি বলে যে জীবনটাই বরবাদ।
তোদের বাবারে কবর দিয়ে ফিরে দুইটি বছর পর,
ভাইবোনেরা পাঠিয়ে দিলে বৃদ্ধাশ্রমে এটাই এখন ঘর।
তোরা তো বুঝবিনা বৃদ্ধাশ্রমের কান্না তোদের নেই সময়,
কবর তো দিলি জিন্দা মায়ের আর কত প্রাণে সয়?
তোদের সন্তানেরে দিসরে সুশিক্ষা করে যেন সম্মান তোদের,
কেউ না দেখলেও দেখেন দয়াময় কান্না বৃদ্ধাশ্রমের।
Shamsun Fouzia
New York, USA
