একটা
শিরোনামহীন রূপকথা
মমতা পাল
একদিন
এক মেঘের রাজা প্রশ্ন করলো রাগতস্বরে,
এই
মেয়ে নাম কিরে তোর?
সারাটাদিন
বকর বকর
সংসারটা
নেই কিরে তোর?
এটা
করিস ওটা করিস
যেমন
খুশি তেমন চলিস
স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেলে
একলা
একলা কেন কাঁদিস?
আমায়
চিনতে পারনি মেঘরাজা!
আমি
যে কবিতা লিখি।
এই
ধর কখনও সুখের আবার কখনও বা দুঃখের।
হরেক
রকম কবিতা।
যখন
যা মন চায়।
ওমা! তুমি জানোনা বুঝি!
ঐ
যে সেবার তোমার সাথে মেঘ বালিকার বিয়ে দিলাম।
গড়ে
দিলাম লাল,নীল সুখের সংসার।
তোমার
মনে নেই বুঝি!
এত
বেভুলো তুমি!
আমার
নাম সুন্দরী গো,
ও
পাড়ায় থাকি।
কেশব
বাবুর মেয়ে,
ঐ
যে ময়রার কাজ করে।
চেনোনা
বুঝি!
মেঘের
রাজা হেসেই খুন!
এও
কি কখনও হয়!
তুই
যদি সুন্দরী হোস তাহলে কানা ছেলের নাম যে পদ্মলোচন রাখা লাগে।
ওহ!
এই কথা।
দিলে
তো আমার মনটা খারাপ করে!
ধ্যাৎ!
তোমার সাথে আর কথাই বলবনা।
এই
দিলাম আড়ি! আড়ি! আড়ি!
এক্ষুণি
গেলাম চলে বাড়ি।
ধূর
পাগলী! এ তো কথার কথা।
সবকিছুতে
কি রাগ করতে আছে?
মন
খারাপ করিসনা---
বলনা
তোর গল্পগুলো।
শুনতে
ভারী ইচ্ছে হলো।
জানোতো কবিতায় আমি সব পারি।
চাঁদ,তারা,আকাশ,নীল
ক্ষেত আরও যে কত কি!
সে
তোমায় বোঝাতে পারবনা।
শুধু
পারিনা নিজের বেলায়।
এখানেই
আমার বড্ড হার।
আমি
শুধু কাঁদতে পারি।
এই
ধরো বসন্তদিনে হোলিখেলাতে এনে দিতে পারি আকাশ জুড়ে রংধনু।
যেমন
খুশি তেমন লাগাক
লাল
নীল আর হলুদ ফাগ।
পাহাড়
থেকে ঝর্ণা এনে
মনের
মতো নদী করি
টইটম্বুর
সেই নদীতে
সাঁতার
কেটে মুক্তো ধরি।
মন
খারাপের সময় এলে
চোখের
জলে বন্যা নামে।
এই
যা!
পাহাড়ের
মনখারাপে
মেঘ
ভেঙে বৃষ্টি আনি
আমার
বেলায় শুধুই যেন
চোখের
লোনা জলটি আনি।
সবার
ইচ্ছে পূরণ করে
মনটা
সবার সুখেই হাসে
আমার
সুখের ঘরটি কাঁদে
একলা
বসে আপন মনে।
রাত
এলেই কান্না আসে
স্বপ্নগুলো
চোখে ভাসে
সবাই
আমায় কষ্ট দিয়ে
পালিয়ে
গিয়ে বেশ যে আছে।
আমায়
একটা দাওনা চিঠি
হলুদ
খামে নীল কালিতে।
পাঁপড়িগুলো
পড়বে ঝরে
সুখসারীদের
গল্প গীতে।
আমি
যতন করে পড়ব চিঠি একলা বসে আপন মনে
ভালোবাসা রাঙিয়ে নেব আমার দুটো চোখের কোণে।
এই
কথা তাহলে ---
দিলাম
লিখে একটা চিঠি
এখন
কর চুপ
ভালোবাসায়
রাঙিয়ে দেব
তোকে
আমি খুব।
কষ্টগুলো
ভুলিয়ে দেব
সকল
অনুরাগে
যতন
করে রাখব তোকে
বুকের
মধ্যিখানে।
