ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০১
মোঃ আবদুল হাই
❑
উত্তেজনায় আমার ঘুম আসছেনা।বসে আছি হোটেলের কামরায়,রুম নং ২০৭। পাহাড়ের বিশালতা আর বৈচিত্র্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
আজ ভোরে আমরা বান্দরবান পৌঁছেছি। বৃষ্টিতে প্রায় ভিজে ভিজে হোটেলে এসে উঠেছি।
মন খুব খারাপ ছিল। বৃষ্টির জন্য পাহাড়ে উঠতে পারবোনা। এজন্য নিজেকে দূর্ভাগা মনে হচ্ছিল। কিন্তু না। বৃষ্টি থেমেছে। ঝলমলে রোদ উঠেছে।
নভেম্বরের এই সময়টাতে বৃষ্টি? আসলেই ভালো লাগে না।
জীপ ভাড়া করে মিলন ছড়ির শৈলপ্রপাত, মেঘলার সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী, টাইগারহিল সব মাড়িয়েছি।
১০ নভেম্বর, ২০০৫
কোনটা রেখে কোনটা দেখি। এই নিয়েই এখনকার উত্তেজনা। পাশের বেড দুটার একটাতে আম্মার সাথে মেয়ে সুবাত(বয়স : ২)।
অন্যটাতে তানজিম (বয়স : ৫) আর তানজিমের মা। আমি ঘুমাতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু ঘুম আসছে না। আমার জানালা দিয়ে চাঁদ আর পাহাড় দেখতে পাচ্ছি।
আজ বিকেলে গিয়েছিলাম পাহাড়ের চূড়া আবিষ্কার করতে। পথ একটা বের করেছি। কাল যাবো। আম্মাকে ও নিব। যা থাকে কপালে।
পাহাড়ে যত রিস্ক তত মজা। রুমাতে যাবো বোটে করে।
বান্দরবান ছোট শহর। সন্ধ্যা নামার সাথে শুনশান নিরব। নেটওয়ার্ক নাই। শুনেছি পাহাড় চূড়ায় উঠলে মোবাইলে কথা বলা যায়।
১১ নভেম্বর, ২০০৫
আজ আমরা রুমাতে এসেছি। রুমা আলাদা জগৎ। বাস্তব জগৎ থেকে পাতালপুরী, পরীর দেশ, চাঁদের পিঠ যেমন আলাদা, রুমা বাংলাদেশ থেকে তেমন আলাদা। পাহাড়ের উপর দিয়েই রাস্তা। যে রাস্তায় সাধারণ যান চলাচল নিষিদ্ধ। যে গাড়ি চলে তাকে বলে চাঁদের গাড়ি। গাড়িগুলোতে শক্তিশালী ইঞ্জিন লাগানো থাকে।
(১৬ বছর পর আজ ২৭/১২/২০২১ অনেক কিছুই বদলেছে। বান্দরবান এখন শুনশান নিরব নয়। আমি ইচ্ছে করেই সেই পুরনো হোটেল 'হিলবার্ডে' উঠেছি। সেই ২০৭ নম্বর রুমের চাবি সংগ্রহ করে তানজিম যেখানটায় শুয়েছিল,গভীর মমতায় আমার কম্পিত হাত বুলিয়েছি। কেবিন বয় অবাক চোখে তাকিয়েছিল। অনেকেই অবাক হবে। কিন্তু আমার মত যারা পুত্রহারা, তাদের চোখ কিছুতেই শুকনো থাকবে না।)
(চলবে) ……
