শহিদ মিনার বলছি আমি
মমতা পাল
দাঁড়াও দেখি ওগো পথিক শোন মোর দুটো কথা কেমন করে বোঝাই বলো কষ্টের আকুলতা। কত ব্যথা মোর বুকের গহীনে কেউ তো বোঝেনা হায়! নিজেই নিজের লজ্জা ঢাকি কষ্ট লুকানো দায়। হারিয়ে গেছে কোথা সে লালন বাংলার সব গীতি হারিয়ে গেছে পল্লী কবির পল্লীর সেই স্মৃতি। দখল নিয়েছে পপ গান আর বিদেশি সংস্কৃতি জনমের মতো হারিয়ে গেছে সেই সে পূণ্য তিথি। হারিয়ে গেছে সুরঞ্জনারা ঐ মেঠোপথ ধরে নকশীকাঁথাটা বিছায়ে রাখেনা সাজু ঐ কবরে। হারিয়ে গেছে মধুর সে ডাক মা বাবা আর ঠাম্মি বিদেশি ছোঁয়ায় এখন সে সব অ্যান্টি অ্যাঙ্কেল মাম্মি। মোহনীয় সেই বাঙালি সাজে সাজেনা এখন নারী কোট টাই পরে হাওয়ায় হাওয়ায় চলছে তাদের গাড়ি। আদব কায়দা লজ্জা শরম কোথা গেছে আজ সরি আধুনিকতার নগ্ন ছোঁয়ায় সব যেন জড়াজড়ি। সব কিছু আজ মেকিতে মেকিতে সাজানো থরে থরে জারি সারির আসর বসেনা বাংলার ঘরে ঘরে। একুশ এলেই আমার আঙিনা ফুলে ফুলে শুধু ভরা অন্য সময় আমি যে কেবল নিষ্প্রাণ আর খরা। একুশ এলেই সবার মুখেতে শহীদের সেই গান ইট পাথরের পাঁজরে পাঁজরে জেগে ওঠে মোর প্রাণ। একই কাতারে দেখি যখন শত শত রাজাকার বুকের গহীনে তপ্ত অশ্রু করে শুধু হাহাকার। এখনও কেন ঐ পাষন্ড আসে মোর বেদিতলে ভুলতে পারিনা সেই অপমান ব্যথা দেয় পলে পলে। ইচ্ছে করে সব ভেঙে ফেলে করি শুধু চিৎকার এখনও কেন ঐ হায়েনার হয়নি সঠিক বিচার। কথায় কথায় ইংরেজি বুলি আধুনিকতার ছোঁয়া শুদ্ধ বাংলা এক নিমেষেই হয়ে গেছে আজ হাওয়া। শত ব্যথা মোর বুকেতে জমানো একুশের ঐ ঢলে মূর্তির মতো সব দেখি আমি বুক ভরে যায় জলে। বিশাল এই রঙ্গমঞ্চে আমি যে অভিনেতা ইট পাথরের পাষানে পাষানে সব কিছু আজ বৃথা।