ADS

মিলার বিচার ❑ মমতা পাল


মিলার বিচার

মমতা পাল

আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সুন্দরী শিক্ষিতা মিলা।

সামনে হাজারও অভিযোগের ফাইল-------

চারিদিকে ফেটে পড়েছে তার কাঞ্চন বর্ণ, চোখে অপরিসীম গভীরতা।

শান্ত, ধৈর্যশীলা, দিব্যরূপা।

জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত তার মুখমন্ডল।

মাথায় তখনও ঘোমটা----

হঠাৎ করে কেউ একজন বলে উঠল মিলা অসতী,

সে অন্যের ঘর ভাঙ্গতে চায়.....

অমনি সবাই কর্কশ স্বরে বলল,হ্যাঁ হ্যাঁ অসতীই বটে।

তানা হলে এত ঢলাঢলি কিসের!

কেন এতটা প্রশ্রয়?

কেন মুখ বুজে সব সহ্য করা?

কেন সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করা?

তবে কি সে নিজের সংসার ছেড়ে অন্য কারও ঘরনী হতে চেয়েছিল!

সবার নিষেধকে কেন উপেক্ষা করেছিল সে?

তখনও ঘোমটাটা তেমনই ছিল,মুখটা ছিল সামান্য  নীচু।

সহসা মাথাটা তুলে ধরে মৃদুস্বরে বলল,আমি তো আমার ধর্ম পালন করেছি মাত্র।

আমার সৌজন্যতাবোধ, আমার শিক্ষা আমাকে অকৃতজ্ঞ হতে দেয়নি।

আমার ধর্ম আমাকে রক্ষা করেছে বিকার থেকে।

তাই আমার কোন কষ্ট নেই,

নেই কোন ক্ষোভ।

শুধু একটা প্রশ্ন  আমি তো তাকে গুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেছি

কিন্তু শিষ্য হয়ে আমি কি পেয়েছি?

শুধুই কি অপবাদ?

শুধুই কি অপমান?

শুধুই কি লাঞ্ছনা, ব্ঞ্চনা?

আমি তো সাধারণ নারী মাত্র।

আমি তো অসাধারণ হতে চাইনি কখনও।

তোমরা যতই অপবাদ দাও

তার সাথে আমার যে সম্পর্ক সেটা  নিতান্তই পূত পবিত্র।

সহসাই ঘোমটাটা খসে পড়ল তার!

চোয়ালটা একটু শক্ত হলো,

চোখদুটো স্থির, প্রজ্জ্বলিত।

তারপর আস্তে আস্তে ফিরে এল সবার অলক্ষ্যে নিজ ঘরে।

যেখানে তার অসতীর পর্দাটা উঠে গেছে এক নিমিষেই

যেখানে একটা সুখী ঘর,পরম নির্ভরতা,বিশ্বাস আর ভরসা।

যেখানে সে কারও মা,কারও স্ত্রী,কারও বৌমা।

এতদিন শুধু একটা অলীক স্বপ্ন তাকে তাড়া করে ফিরছিল বারবার,

সে বন্দী পাখির মতো ছটফট করছিল।

আজ সে মুক্ত......

বহুদিন পর আজ সে হেসে ওঠে।

নির্মল নীল আকাশ তাকে হাতছানি দেয়----

গানে গানে ভরে ওঠে তার হৃদয়।

আজ সে নিশ্চিন্তে ঘুমালো বহুদিন পর।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা