নীলাদের স্যালুট জানাই
খালিদ বিন আকরাম
আমাদের নীলা আপু সংসারে
বড় মেয়ে
কতটা যে কষ্ট করে আপু সারাদিন
খেয়ে না'খেয়ে ।
পৃথিবী টা তার সাথে করেছে
বিরূপ আচারন
তাইতো মেয়ে হয়েও করছে সে
সমাজে বিচরণ।
তাহলে চলো বলি নীলা আপুর
আসল খবর
কেনো এতো ছোট হয়েও তার চোখে
বইছে নহর।
দুই বোন এক ভাই বাবা মা
মিলে মোট পাঁচ জন
নীলার বাবাই আনত খাবার ঘরে
হলে প্রয়োজন।
দুই ভাই এক বোন নীলার ছোট
সবাই লেখাপড়া করে
অল্পতে তুষ্ট পরিবার সুখ
শান্তি আনন্দ ছিলো ঘরে।
হঠাৎই একদিন প্রভাত লগ্নে
নীলার বাবা বলে
মাগো নীলা দারুণ অসুখ বেঁধেছে
আমার গলে।
অনেক টাকা প্রয়োজন জটিল
অপারেশন তাই
এতো টাকা দরিদ্র পরিবারে
কখনো যোগার নাই।
যা হবার তাই হলো আওয়াজ ভাসে
মসজিদ মাইকে
ঘরের পাশের কলেজে নীলা শুনিলো
বাবা'টা নাই' যে ।
যেনো আকাশটা ভেঙে চূর্ণ
চূর্ণ হয়ে বসিলো মাথায়
কি করে চলবে সংসার তার চিন্তায়
চেহারা ঘামায়।
প্রাইমারি পড়ুয়া ছোট দুই
ভাই স্কুলে পড়বে তাই
নীলার এখন পড়ালেখা ছেড়ে
কাজ করা চাই।
দেখতে সুন্দর নীলা, শকুনের
নজরে পড়েছে
অভদ্র যুবকরা তার ইজ্জতের
পিছনে লেগেছে।
বাবা নেই বড় ভাই নেই অভিভাবকহীন
সে
কত যে কষ্টে পড়েছে এই অভাগা
মেয়ে।
মায়ের ঔষধ খরচ আর সংসারের
চাল ডাল
খেয়ে না খেয়ে কাটে নীলার
পরিবার আজকাল।
হঠাৎ একদিন দুরারোগ্য ব্যধিতে
বিদায় নিল মা
ফের ঘটলো অশনি কারবার নিরুপায়
পরিবার টা।
ছোট্ট দুটি ভাই নিয়ে শুরু
হলো এতিমের জীবন
অল্প ব্যবধানে যারা হৃদয়ে
পোষে দুইটি মরন।
সকালে নীলা পড়াতে যায় দুপুর
নাগাদ ঘরে ফিরে
তিন জনার এই সংসার ভালই
যাচ্ছিল সমুদ্র তীরে।
বিকেলে কাঁথা সেলাই হাতের
কিছু কাজ কর্ম
আর সময় পেলেই পালন করিত
নিজ ধর্ম।
এর কটা দিন বাদে এলো আরো
বিরাট একটা ঝর
যে ঝরে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন
হলো পরিবার যেন যাযাবর।
নীলাদের ফুপাতো ভাই ছিলো
খুব বড় ধনী
বলিলো নীলা তুমি খুব দুখে
আছ জানি।
চলো তিন জনই আমার সাথে দূর
কোনো নগরে
গাড়ি বাড়ি হবে আরো হবে কতো
কি!
নীলা বলিল আপনারা সাহেব
ধনী মানুষ বটে
জানিনা জীবন বাঁধলে শেষে
কি,যে ঘটে।
আমার এতিম দুই ভাই থাকবে
আমার সাথে
পড়ালেখা করে তারা হাসবে
দিন ও রাতে।
সবকিছু মেনে নিয়ে চললো তারা
অজানা দেশে
জানেনা লীনা কি হবে তার
জীবন শেষে।
(সংক্ষিপ্ত)

