রীনা আক্তার
আমি একজন নারী
চোখের স্বচ্ছ নোনা জলকে
চিবুক অবধী গড়াতে না দিয়ে,
লোক চক্ষুর অন্তরালে
চোখের মধ্যেই শুকিয়ে ফেলি।
দীর্ঘস্বাসের উষ্ণতায় চারপাশকে কুলষিত না করে
শত কষ্টে বুকের মধ্যেই চেপে রাখতে জানি।
প্রতারণা আর বিশ্বাসঘাতকতার তীব্র যন্ত্রনা
যখন আমার জীবনের পথকে বন্ধুর করে দেয়
আমি তা ছেঁটে চেঁছে চলার পথকে মসৃণ করা নারী।
ঝলসে যাওয়া হৃদয় থেকে বের হওয়া
পোড়া গন্ধকে প্রতিনিয়ত
ধৈর্যের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে রাখি,
যাদের বুকের উষ্ণতায়
স্নেহের পরশের ছোয়ায় বড় হয়েছি,
তাদের সাথে অতি সহজে সম্পর্ক ছিন্ন করে
অপরের জন্য স্বার্থত্যাগ করা নারী আমি।
জীবনের সব উচ্ছাস কে উৎসর্গ করে দিয়েও
সংসার, পরিবার, পরিজন, কর্মস্থল
সব জায়গায় এক অপদার্থ নারী আমি।
আমি প্রতিদিনই কবর খুড়ি
আমার আশা-আকাঙ্খা,চাওয়া-পাওয়া
ভালোলাগা আর ভালোবাসার।
আমি মাটি, আমি সর্বসহা , কারন আমি নারী।
আমার দুঃখ, কষ্টো আর হারানোর বেদনাকে
নিদ্রাহীন রক্তচক্ষুর জল দিয়ে,
রাতের নির্জনতায় বিসর্জন দেই।
ঠোঁটের কোণে কৃত্রিম হাসির পরশ দিয়ে
দিন শুরু করা নারী আমি।
তর্কে-বিতর্কে, সভা-সেমিনারে
দেয়া হয় আমাকে স্বাধীনতার সনদ,
অথচ, পরাধীনতার অদৃশ্য শেঁকলে
আমার সমস্ত সত্বাকে বেঁধে দেয়া নারী আমি।
আমি একজন নারী।
