ADS

ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০৭



ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০৭

মোঃ আবদুল হাই 

ডিম পাহাড় থেকে নামতে নামতে অন্ধকার হয়ে গেল। আলী কদম আরও অনেকটা পথ বাকী। গ্রামের একটা মসজিদে মাগরিব পড়লাম। মুসল্লীরা আমাকে, আমার বাইককে গভীর মনোযোগে দেখছিল। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি,বান্দরবান থেকে ডিম পাহাড় হয়ে এখানে এসেছি শুনে অবাক হলো। আরও অবাক হলো মারায়নতং এ রাতে থাকবো শুনে। একজন আবার আমার বাইকটাকে রাস্তার রাজা বলে মন্তব্য করলো। ওদের কাছ থেকে রাস্তার নির্দেশনা নিয়ে আবার ছুটলাম আলীকদম আবাসিক বাজারের দিকে। অন্ধকার রাত, অপরিচিত রাস্তা, খাড়া পাহাড় আমাকে এলোমেলো করে দিচ্ছিলো। এমন সময় একজন আমার বাইকে উঠে বসলো। তার বাড়ি নাকি মারায়নতং পাহাড়ের পাদদেশে। আমিও বিনা পয়সায় একজন গাইড পেয়ে গেলাম। এই আরোহী তঞ্চঙ্গা উপজাতির। নাম রুনলাই তঞ্চঙ্গা। যেতে যেতে তার সাথে যেসব কথা হয়ঃ

(১)মারায়নতং পাহাড়ে মানুষ ছাড়া ও অনেকে বাস করে। যাদের শরীর নাই। দেখা যায়না।

(২)বিষধর সাপ দিনের বেলাতেও ফোঁসফোঁস করে।

(৩)টাইগার জোঁক একবার ধরলে ছাড়ানো মুশকিল।

(৩)গত সপ্তায় তিনজন বাইকার নামতে গিয়ে ব্রেক ফেইলড হয়ে মারা গেছে।

আমি রুনলাইকে নামিয়ে দিয়ে মারায়নতং এর পথ ধরলাম। প্রথমটায় ভালোই উঠলাম। একটু পরেই বাইকের কথা শোনা গেল,"তুমি গেলে যাও। আমি আর না।" বাইকের ইন্জিন বন্ধ হয়ে গেল। রিস্টার্ট করলাম। একবার দুবার তিনবার। স্টার্ট হলো কিন্তু উপরে উঠলো না। ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমি বাইকসহ রাস্তার মাঝখানে। আমার সামনে খাড়া আপহিল। পিছনে খাড়া ডাউনহিল। ব্রেক চেপে ধরে বাইক থেকে নামলাম। ডান পা দিয়ে ঠেক দিলাম। যাতে গড়িয়ে নিচে পড়ে না যায়। মনে মনে বললাম, হে সারা জাহানের মালিক, তোমার অপার সৃজন আরো কাছ থেকে দেখবো বলে পাহাড়ে এসেছি। এখন আটকে গেছি। উদ্ধার কর।

উপর থেকে একটা আলো নিচে নামতে দেখলাম। যার হাতে আলো, আমার প্রায় কানের কাছে এসে বললো,

ফেঁসে গেছেন?

আমিঃ হুম।

আলোঃ যাবেন কই?

আমিঃ উপরে।

আলোঃ বাইকতো আর যাবে না।

আমিঃ আমি যাবো ইনশাল্লাহ।

আলোঃ আমর সাথে বাইকটাকে ধরুন। সাইডে নিতে হবে।

আমিঃ তারপর?

আলোঃ বাইক এখানেই থাকবে। আমি পাহারা দিব।

আমি নিচের দুইটা তঞ্চঙ্গা পাড়ার নাইট গার্ড। নাম শাজাহান।

আমিঃ আপনি উপরে গিয়েছিলেন কেন?

শাজাহানঃ আমি বার বি কিউ এর লাকড়ি সাপ্লাই দেই। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়া’লার। আলহামদুলিল্লাহ। আমি শাজাহানকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদায় দিলাম।

তারপর যা যা করি-

(১) মোবাইলের টর্চ জ্বালাই। বেল্ট ফেল্ট নাই। মুখ দিয়ে মোবাইল কামড়ে ধরি।

(২) বাইকে তালা মারি।

(৩) বাইকে থাকা সবকিছু হেমোকের রসি দিয়ে শক্ত করে বাঁধি।

(৪) পাহাড়িরা যেভাবে বোঝা মাথার সাথে আটকে রেখে পথ চলে, আমিও সেভাবে আমার বোঝাটা নেই।

তারপর উঠতে থাকি মহাশূন্যের দিকে। পিছনে পড়ে থাকে আমার প্রিয় বাইক।

'ট্রেকিং ফোর্স বাংলাদেশ ' এর সদস্যদের সাথে নিলগিরিতে দেখা হয়েছিল। ওরা হেটেই পাহাড়ে উঠে হেটেই নামে। সাথে থাকে তাবুসহ বড় বড় বোঝা। মারায়নতং পাহাড়ে ট্রেকিং করার সুযোগে আমি এখন ওদের চ্যালেন্জিং টাস্ক আমার শরীর দিয়ে অনুভব করতে পারছি। আমি কিছুদূর উঠেই ধপাস। ঘেমে টেমে একাকার। বসে লম্বা লম্বা দম নিচ্ছি। গায়ের জ্যাকেট খুলে বেধে ফেলেছি। এমন সময় আবার আলোর দেখা। এবার উপর থেকে না। নিচ থেকে উপরের দিকে উঠে আসছে। আমি ঝিম ধরে বসে তার আগমনের অপেক্ষা করছি।

 

(চলবে) ……

মোঃআবদুল হাই 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা