ADS

ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০২


ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০২

মোঃ আবদুল হাই 

বাংলাদেশের সব পাহাড়ের চূড়াগুলোতে আমি আমার বাইকের চাকা ছোঁয়াব, এই ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। এবার বারইয়ার হাট দিয়ে ঢুকে সিন্দুক ছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, থানচি,তমাতুঙ্গি, ডিম পাহাড়,  আলীকদম,  মারায়নতং হয়ে চকোরিয়া দিয়ে বের হয়ে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ করেছি। তিন পার্বত্যজেলা প্রথমে খাগড়াছড়ি  তারপর রাঙ্গামাটি তারপর বান্দরবান একই ট্রাভেলে নিজের বাইক ব্যবহার করে বিজয়ের আনন্দ নিয়েছি।  ট্রাভেলটি গা ছমছমে, রক্ত শীতল করা  এডভেঞ্চারে পূর্ণ ছিল। ট্যুর-ট্রাভেল যাদের পছন্দ,  তারা মজা পাবেন। বাইকারদের জন্যও নানা নির্দেশনা থাকবে। কারও সামান্য উপকার হলে আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

 

     ঢাকা থেকে সিন্দুক ছড়ি হয়ে রাঙ্গামাটি :

অন্ধকার থাকতেই আমি বিসমিল্লাহ বলে বাইকে স্টার্ট দেই। কিছুদূর যাওয়ার পর ফজরের আজান হয়। একটা পেট্রোল পাম্পের দোতলায় জামাতে নামাজ আদায় করি। এখানে আমি আগেও নামাজ পড়েছি। গাছগাছালি আর পাখিতে ঠাসা একটা জায়গা। নামাজ শেষ করেই শুনতে পাই হাজার পাখির কিচিরমিচির। মনটাই ভালো হয়ে যায়। একেবারে নির্ভার হয়ে আবার জার্নি শুরু। আমার সামনে রক্তলাল আকাশ, পিচঢালা হাইওয়ে, মেঘনা আর গোমতির মত বড় বড় দুইটা ব্রীজ। সকালের টাটকা তাজা হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে ছুটে  চলছে আমার বাইক। কানে শোঁ শোঁ বাতাসের শব্দ শুনেছি। মুখে উচ্চারণ করছি সুবহানাল্লাহ। 

বারইয়ার হাট হলো ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়েকে বিদায় দেয়ার স্পট। ঢুকে গেলাম খাগড়াছড়ি রোডে। এখানে নাস্তা সেরে স্থানীয়দের কাছে কিছু নির্দেশনা নিলাম। যদিও আমার কাছে পর্যটনের ম্যাপ আছে। বাইকের টাংকির উপর ম্যাপস্ট্যান্ড আছে। তারপরও স্থানীয়দের কথার সাথে মিলিয়ে নেয়া ভালো। অতিরিক্ত সতর্কতা।

ছুটে চলছি রামগড়ের দিকে। রামগড়ে নতুন ব্রীজ হয়েছে ভারতের সাব্রুমের সাথে যোগাযোগের জন্য। ব্রীজের গোড়ায় জায়নামাজ বিছিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করেছি। মনে রাখবেন, বড় বড় জার্নি, আল্লাহই সহায়।  অন্য কেহনা কিচ্ছুনা।

রামগড় থেকে জালিয়াপাড়া ২০ কি.মি.,জালিয়াপাড়া থেকে সিন্দুক ছড়ি ৭ কি.মি, সিন্দুক ছড়ি থেকে মহালছড়ি ১৫ কি.মি. পুরোটাই নয়নাভিরাম সুন্দর নতুন রাস্তা। মনে হবে আপনি ইউরোপের কোনো দেশের পাহাড়ি  রাস্তায় বাইক রাইড করছেন। 

মহালছড়িটা খাগড়াছড়ি জেলায়। এখান থেকে রাঙ্গামাটি শহর ৬২ কি.মি.। ৩২ কি.মি.  চালানোর পর আমার চোখ একটা জায়গায় আটকে যায়। এত সুন্দর পাহাড়ি দৃশ্য আমি কোনোদিন দেখিনি। জায়গাটার নাম আমি জানিনা। একেবারে জনশূন্য। কাছেই বগাছড়ি নামে একটা বাজার আছে। সেটাও টের পেয়েছি  পরের দিন। সন্ধ্যা নামে প্রায়। আমি এই জায়গা ছেড়ে যেতে চাইলাম না। আশেপাশে লোক বসতি না থাকলেও পাহাড়ের চূড়ায় একটা নতুন চকচকে টিনের ঘর দেখতে পেলাম। পাকা রাস্তার পাশে বাইক স্ট্যান্ড করে রেখে পায়ে হেটে উঠে এলাম ঘরের সামনে।"ঘরে কেউ আছেন?" সাড়াশব্দ নেই। নক করলাম কয়েকবার। দরজাটা আস্তে করে খুলে গেল।ভিতরে কেউ নেই। ভয় পাওয়ার কথা, পেলামনা। তৈয়াম্মুম করে ওখানেই আসর নামাজ পড়লাম। সিদ্ধান্ত নিলাম রাতে এখানেই থাকবো। ওখানেই একটা খোলা জায়গায় বসে ২ টা কাজ একসাথে  করছি। (১)পাহাড়ের মায়াময় দৃশ্য দেখছি। (২) ঘরের মালিকের কাছে থাকার অনুমতি  প্রার্থনার জন্য তার  সাক্ষাতের অপেক্ষা করছি। না কোথাও কেউ নেই। শুনশান নিরব। প্রাণীর মধ্যে ঝি ঝি পোকা,আমি, আর একটা টিকটিকি।  আমি বাইক আনার জন্য আবার নিচে নামলাম। পাকা সড়ক থেকে সোজা উপরের দিকে একটা পায়ে হাটা পথ উঠে গেছে। আমি বাইকের ফাস্ট গিয়ার ব্যবহার করে উঠে আসলাম। অন্ধকার দূর করার জন্য বাইকের লাইটগুলো জ্বালিয়ে রাখলাম। ঘর থেকে দেখা যায় এমন একটা জায়গায় বাইক স্ট্যান্ড করালাম। তারপর যে কাজগুলো সারলাম-

(১)মোমবাতি জ্বালানো।

(২)মশার কয়েল ধরানো।

(৩)বিছানা রচনা।

(৪)নামাজ আদায়।

(৫)রাতের তারা গুনতে সুবিধাজনক  স্থানে বসা।

(৬)শুকনো খাবারে ডিনার।

 

রাত বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে ঠান্ডা বাড়ছে। অধিক ঠান্ডায় নাকি স্ট্রোক হয়। সারাদিনের ক্লান্তির কারণে ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। একসময় ঘুমের রাজ্যে চলেও গেলাম। বিচিত্র এক শব্দে মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গলো। তখনই মনে হলো ঘরের ভেতর আমি ছাড়াও আরও কারও বসবাস আছে। নইলে ঘরের দরজা খুলে দিল কে? 

 

(চলবে) ……

মোঃআবদুল হাই 


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা