ADS

ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০৪


ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০৪

মোঃ আবদুল হাই 

আমি এক গাল হেসে জিজ্ঞেস করলাম, দাদা কেমন আছেন? (আমার চোখে মুখে পরিচিতের ভঙ্গি। যদিও হাসিতে প্রাণ ছিল না।) 

দাদা উত্তর না দিয়ে আমার বাইকের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল। হাত দিয়ে বার বার দা এর ধার পরীক্ষা করল। আমি বেহায়ার মত আবারও প্রশ্ন করলাম, দাদার বাড়ি কি এখানেই? দাদা হাত দিয়ে একটা ভেলির ইশারা  করল। আমি ভেবেছিলাম বাংলা জানেনা বলে কথার উত্তর দিচ্ছে না। কিন্তু আমাকে চমকে দিয়ে স্পষ্ট বাংলায় প্রশ্ন করল, দাদা কোথা থেকে? আমি বললাম, ঢাকা থেকে। ব্যাস্  হয়ে গেল খাতির। আমি হেমোকটা ঠিকমত বাঁধতে পারছিনা দেখে সাহায্য করল। আমরা অনেকক্ষণ গল্প করলাম। আমি একটা বাঁশির সুরের অপেক্ষা করলাম।

 

       রাঙ্গামাটির পাহাড়ে

       দুপুর বেলায় আহারে

       নাম ধরে কে বাঁশরি বাজায়।

 

না,   আমি কোন বাঁশি শুনলাম না। শুনলাম, দাদার হাতের এই দা বাঁশ, লাকড়ি ইত্যাদি সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়। সারা পাহাড় জুড়েই দাদা,দিদিদের জীবিকা। কিন্তু যেদিন হাতি নামে  সেদিন সব বন্ধ। হাতির পায়ের নিচে অনেকেরই  প্রাণ গেছে। আমি আঁতকে উঠে হেমোক থেকে নেমে দড়ির বাঁধন খুলতে শুরু করলাম। দাদার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। দাদার নাম মিল্লাদ চাকমা। নাম শুনে ভেবেছিলাম নও মুসলিম। কিন্তু না,  বৌদ্ধ।  চাকমারা বেশির ভাগই খৃস্টান। ইনি আবার বৌদ্ধ কেন্ কে জানে?

 

বান্দরবান যেতে যেতে আরও দুবার থামলাম।টিউবওয়েল থেকে পানি নিলাম। পুরো ট্রাভেলে পানি কিনিনি। পানির কষ্টও হয়নি। নলকূপ,  ঝিরি, পানি শোধন কেন্দ্র একটা না একটা পেয়ে গেছি।

 

বান্দরবান থেকে ১৫  কি.মি.আগে একটা  রেস্ট হাউজ খুব পছন্দ হয়েছিল।  কিন্তু তালা দেয়া। একেবারে নিরিবিলি,  পাহাড় চুড়ায়। চারপাশে  ঝিঝি আর ব্যাঙ্গের ডাক। নিখাঁদ প্রকৃতি। পাকা রাস্তায় বাইক রেখে উঠে গিয়েছিলাম উপরে। কারো দেখা মিললো না। তাবু থাকলে ক্যাম্পিং করা যেতো। একটা  মাচার উপর অনেকক্ষণ বসে থেকে নেমে এসেছি। 

 

বান্দরবান ঢুকে প্রথমেই হোটেল নিয়েছি। হোটেল হিলবার্ড আমার অনেক স্মৃতি বিজড়িত।  ২  দিন বাদে আজ বেশি প্রয়োজন ছিল -(১)গোসল (২) লেপ গায়ে দিয়ে ঘুমানো।

ঘুম দিয়ে একদম ঝরঝরা হয়ে, আসর নামাজ পড়ে বের হয়ে গেছি মেঘলার দিকে। মেঘলা আমার প্রিয় একটা স্পট। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বেঞ্চিতে বসে নিঃশব্দেের শব্দ শুনতে আমার খুব ভালো লাগে। 

 

হিল ভিউতে ডিনারের পর একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দর্শক হয়েছি। উপজাতীয় শিল্পিরা দেখলাম অনেক এগিয়েছে।  হোটেলে ফিরে এশা পড়ে আরামে ঘুম দিয়ে খুব সকালে উঠেছি। ঝটপট কিছু কাজ সেরে নিলাম--

 

(১)ফজরের নামাজ

(২)নাস্তা

(৩)ফুলটাংকি তেল নেয়া

(৪)বাইকের চেইন টাইট দেয়া।

 

বাইকাররা নিজের চেয়েও বেশি বাইকটাকে দেখবেন। কারণ এটা সমতল না,  পাহাড়। 

বাইক ঠিক তো আপনার সব ঠিক। 

 

আমি আজ ছুটছি থানচির দিকে। থানচি, ডিম পাহাড়, তমাতুঙ্গি, মারায়ন তং আমার অনেক দিনের স্বপ্ন। 

 

(চলবে) ……

মোঃআবদুল হাই 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা