ADS

ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০ ৬

 


ভ্রমনগল্প- রাঙ্গামাটি - পর্ব-০

মোঃ আবদুল হাই 

ঘটনা যেমন ভয়াবহ তেমন চিত্তাকর্ষক। ভয়াবহ এইজন্য যে,চিকন পায়ে হাটা একটা রাস্তা সোজা নিচের দিকে নেমে গেছে। চিত্তাকর্ষক এইজন্য যে, রাস্তার মাথায় একটা ঝিরি। ঝিরির উপর একটা কালভার্ট। এই দুইয়ে টেনে আমাকে নিচে নিয়ে গেল। আমি ভুলে গেলাম আমার সবকিছু। এমনকি অনেক উপরে রেখে আসা আমার প্রাণভোমরা বাইক। কালভার্টের রেলিং এ অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। চারদিকের সবুজ গাঢ সবুজ পাহাড় কালচে রঙ ধারণ করেছে। ক্যাম্পিং করার জন্য এটা আদর্শ জায়গা। চিহ্ন দিয়ে রাখলাম। ভবিষ্যতে তাবু নিয়ে আসলে এখানে ক্যাম্পিং করব ইনশাল্লাহ। হঠাৎ বাইকের কথা মনে হলো। নামার সময় জোসে নেমেছি। এখন আর উঠতে পারছিনা। কোনমতে গাছের শিকড় ধরে ধরে প্রায় ঝুলতে ঝুলতে উঠে এলাম উপরে। বাইক চেক করলাম। সব ঠিক আছে। এবার শোঁ শোঁ আওয়াজ তুলে থানচি ঢোকার পালা।

থানচি ঢোকার আগে বিজিবিকে রিপোর্ট করতে হয়। করলাম। থানচি পৌঁছে লাঞ্চ, নামাজ সেরে মায়ানমারের দিকে রওয়ানা। পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই ময়ানমার? না। ঐদিকে আমাদের আর্মি একটা ভিউ পয়েন্ট করেছে। নাম তমাতুঙ্গি। এক পয়েন্ট থেকে তিনটা সুউচ্চ পর্বতের চূড়া দেখাো যায়। (১) তাজিনডং (২) কেওক্রাডং (৩) ডিম পাহাড়।

বাইকে স্টার্ট দিতে যাবো এনম সময় সুলতান নামে এক স্থানীয় অনুরোধ করল তাকে সাথে নিতে। নিলাম। আরও একটা এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ হলো। পিলিয়ন নিয়ে পাহাড়ে ওঠার এক্সপেরিমেন্ট। ওকে বলে রাখলাম সমস্যা হলে আমি ব্রেক করে দাঁড়াবো, আপনি নেমে যাবেন।

তমাতুঙ্গি যেতে যেতে সুলতানের সাথে অনেক কথা হয়। থানচি থেকে যারা তিন্দু, রেমাক্রি, নাফাখুম আমিয়াখুম যেতে চান, সুলতানকে গাইড হিসাবে নিতে পারেন। ফোন নং 01834213870 . তমাতুঙ্গি ঘন্টা খানিক থেকে আবার থানচি আসলাম।

থানচিতে নাইট স্টে করতে মন চাইলোনা। ছুটলাম ডিম পাহাড়ের দিকে। বাইকের প্রয়োজনীয় কিছু ফিটনেস চেক করালাম। চেইন টাইট দিলাম। লুব্রিকেন্ট এপ্লাই করলাম।

ডিম পাহাড় আমি যতটা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও উঁচু। আমার চোখের সামনে দুইটা বাইক পড়ে গেল। ঢালু পাহাড়ে গড়াগড়ি। একটাতে আবার নারী পিলিয়ন ছিল। আমার ইঞ্জিন ও ফেইল করতে চাইল। গিয়ার ওয়ানে নিয়ে সম্পূর্ণ থ্রোটল টেনে ধরলাম। বাইকটা বিকট আওয়াজ করে লাফিয়ে উঠলো। আগাতে থাকলো পিঁপড়ের গতিতে। আমি অন্তরের গভীরে কার যেন অস্তিত্ব অনুভব করলাম। চোখ ভিজে গেল। পড়তে থাকলাম আলহামদু লিল্লাহ।

ডিম পাহাড়ে আর্মিকে রিপোর্ট করতে হয়। করলাম। তাদের কাছে মারায়নতং যাওয়ার নির্দেশনা নিয়ে আবার ছুটলাম। পশ্চিম আকাশে লাল সূর্যটা অন্য রকম লাগছিল। সবুজ পাহাড়টাকে বিচিত্র লাগছিল। ঘাসের উপর জায়নামাজ বিছালাম। এই আসরের নামাজ আমার মনে হয়েছে অন্য নামাজের মত নয়। এখানে স্রস্টার সাথে সৃস্টির সম্পর্ক আরও প্রাণবন্ত, আরও নিবিড়। চোখ কিছুতেই শুকনো রাখা যাচ্ছিলো না।

 

(চলবে) ……

মোঃআবদুল হাই 

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

ছোটদের জন্য লেখা